দুর্নীতির কারণ ও তার প্রতিকার 

           


দুর্নীতি প্রকৃত গণতন্ত ও সুশাসন প্রতিষ্টার  অন্যতম অন্তরায় ।

বিভিন্ন ধরনের  দুর্নীতি  আমাদের সমাজে বিদ্যমান  । 

দুর্নীতির  প্রধান  কয়েকটি  ধরন  হলো – ঘুষ,  অবৈধ উপায়ে  সুবিধা লাভ,  

চাঁদাবাজি, সরকারি কোষাগার থেকে চুরি ডাকাতি,  অবৈধ  পৃষ্ঠোষকতা,

স্বজনপ্রীতি,  অবৈধভাবে চাকরি প্রদান,  অর্থ আত্নসাৎ, কাউকে সুবিধা দেওয়া  

 বিনিময়ে  অর্থ  বা অন্যান্য  সুবিধা গ্রহন, অবৈধভাবে কোন কিছু  ভোগ দখল।

বিভিন্ন কারণে  দুর্নীতি হয়।  এর পেছনে যেমন ব্যক্তিগত করণে কাজ করে, 

তেমনি পদ্ধতিগত কিছু  কারণ ও এর প্রসারে ভৃমিকা রাখে।  মানুষের সীমাহীন  লোভ লালসা

থেকে দুর্ণীতির  উৎপত্তি।  বাংলাদেশে  দুর্নীতির ব্যাপক  আকার  ধারন  করার  অন্যতম কারন হলো  

সরকার দুর্নীতির মাধ্যমে  নিজের  স্বার্থ হাসিল করে।  দুর্নীতির কোন জবাবদিহিতা না থাকায়  দুর্নীতির

পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।  সাধারণত  নিম্নলিখিত বিষয়গুলোকে  দুর্নীতির  প্রধান কারণ হিসেবে

চিহ্নিত করা যায় –

১. সরকারি  প্রশাসন  যন্তগুলোকে  রাজনৈতিক  দলগুলোর  দলীয় স্বার্থে ব্যবহার  করা।

২. পি এসসির  মাধ্যমে  দলীয়ভাবে  নিয়োগ প্রদান  করে তাদের ভবিষ্যতে  নিজ স্বার্থে ব্যবহার  করা।

৩. দুর্নীতি দমন কমিশনসহ  জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর  অকার্যকারিতা।

৪. দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমৃলক শাস্তি না হওয়া  যা পরোক্ষভাবে দুর্নীতিকে  উৎসাহিত করে ।

৫. ক্রমবর্ধমান ভোগাবাদী প্রবণতা  ও নৈতিক মৃল্যবোধের  অবক্ষয়ের  কারণে ক্ষুদ্র স্বার্থ চরিতার্থ করার  জন্য

     দুর্নীতির  আশ্রয় নেওয়া।

৬. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব থাকার কারণে সর্বস্তরে দুর্নীতি জেঁকে বসেছে ।

৭. কতিপয় দায়িত্বশীল ব্যক্তির  সীমাহীন দুর্নীতির কারণে  দুর্নীতির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

তথ্যের অপর্যাপ্ততা,  সরকারি  স্বচ্ছতার  অভাব,  তথ্য  প্রকাশে স্বাথধীনতার  অভাব, বাক স্বাধীনতার  অভাব,  দুর্বল 

অর্থনৈতিক  হিসাবনিকাশ,  দুর্বল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা,  দুর্নীতি প্রকাশের অভাব,  সরকারের  জবাবদিহিতার অভাব,

দুর্বল  গণতন্ত চর্চা, তৎপর  সুশীল সমাজের  অভাব,   দুর্বল আইনের  শাসন,  দুর্বল আইনচর্চার  ব্যবস্থা, বিচারবিভাগের  স্বাধীনতার অভাব,  

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান  বিক্রয় বা  বেসরকারি খাতে  ছেরে দেওয়া, রাজনৈতিক দুরবৃত্তায়ন,  ইত্যাদি কারণে আমাদের  জাতীয় জীবনে বাসা

বেঁধেছে।

দুর্নীতি হঠাৎ করে ঘটে না।   এটি বিস্তার লাভ করতে  যতেষ্ট সময় নেয়।  রাজনৈতিক ,  অর্থনৈতিক  ও সমাজকভাবে

যরা ক্ষমতাবান তাদেরদের  প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে  দুর্নীতি বিস্তার লাভ করে। কাজেই শুরুতেই যদি দুর্নীতি  প্রতিরোধ  করা না যায়,

তাহলে এটি  ব্যাবক  আকার ধারণ করে  এবং ধীরে ধীরে  পুরো শাসনব্যবস্থা  দুর্বল হয়ে পড়ে।  দুরনীতি  প্রতিরোধে  কিছু

উদ্যেগ অতিসত্বর  নেওয়া উচিত।  যেমন –

১.দুরনীতি  দমন  কমিশনকে  সরকারি  নিয়ন্তণমুক্ত হতে হবে।

২.দুর্ণীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদদের  শাস্তি  প্রদান  করতে হবে।

৩. দুর্নীতি প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

দুর্নীতি  যেকোনো  দেশের  জাতীয় উন্নয়নের  অন্যতম। 

প্রধান  অন্তরায়।

তাই,  দুর্ণীতি থেকে দেশ ও জাতিকে  রক্ষা করার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক  সদিচ্ছা, সর্বত্র সততার  আবহ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রয়োজন।

দুর্ণীতি রোদে নাগরিক  সমাজ,  বিশেষ করে   তরুনদের  সক্রিয় ভূমিকা পালন  করতে হবে । সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর  সকল  অনিয়মের  বিরুদ্ধে

তরুনদের আগিয়ে আসতে হবে এবং দুরনীতির বিরুদ্ধে  সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে  হবে 

             

             মোঃ বেলাল হোসাইন

             সিরাজগঞ্জ 

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s